“পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

“পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন ও ফ্যান্সে বিশ্ব মোহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি করে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও জশনে জুলুসের র‌্যালী অনুষ্ঠান”

 
৩১শে অক্টোবর-২০২০ইংরেজী রোজঃ শনিবার সকাল ১০:৩০ঘটিকায়, বাংলাদেশ আশেক্কীনে আউলিয়া পরিষদের প্রতিষ্টাতা সভাপতি সাইয়্যেদ শাহ্ সূফী বেলাল নূরী আল্ সুরেশ্বরী (মাঃ জিঃ আঃ)-র নির্দেশে, সংগঠনের সহ্ সভাপতি সাইয়্যেদ শাহ্ সুফী মুক্তাদির নূরী আল্ সুরেশ্বরী’র সভাপতিত্বে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ আশেক্কীনে আউলিয়া পরিষদের উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন ও ফ্যান্সে বিশ্ব মানবতার মুক্তির দ্রুত হযরত আহম্মদ মোজতাবা মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি করে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও জশনে জুলুসের র‌্যালী বের করা হয়।
 
সভাপতির উল্লেখিত সম্পূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরা হলো- নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লিহ আলা রাসুলিহিল কারিম, আম্মা বা’দ। সকল প্রশংসার অধিকারী মহান রাব্বুল আলামিনের পাক দরবারে আমার অগনিত সিজদা এবং উম্মতের কান্ডারী রাহমাতুল্লিল আলামিন, হুজুর পুরনূর হযরত আহম্মদ মোজতবা মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) এর প্রতি লক্ষ কোটি দরূদ ও সালাম।উপস্থিত আশেকে রাসূল, তরিকতপন্থী, মুমীন-মুসলমান, সুধীবৃন্দ, মিডিয়ার কর্মকর্তা ও দর্শকদের পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আমার প্রেমময় শুভেচ্ছা ও সালাম, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু!
 
মহান রাব্বুল আলামীনের পেয়ারা হাবীব, যিনি সৃষ্টি জগতের রহমত স্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন। সেই প্রিয় নবী সাইয়্যেদিল মুরসালিন, খাতামিন নাবিয়্যিন, শাফিইল মুজনাবিন, আনিছিল গারিবিন, রাহমাতুল্লিল আলামীন, রাহাতিল আশিকীন, মুরাদিল মুশতাকীন, সামছিল আরিফীন, হযরত আহম্মদ মোজতবা মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) এর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। যখনই কোনো জাতি, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের তরফ থেকে নিয়ামত ও রহমত লাভ করেন সেই সময়টি ঐ জাতির নিকট সর্বোচ্চ আনন্দের দিন। তাই উক্ত দিবসটি আমাদের মানব কূলের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ও মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দের দিন। মহান রাব্বুল আলামীন কালামে পাকে এরশাদ করেন –
আমি আপনাকেই শুধুমাত্র সমগ্র বিশ্ব জাহানের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি। (সূরা: আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭)
 
অতএব ঈদে মিলাদুন্নবী হচ্ছে সকল ঈদের শ্রেষ্ট ঈদ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। কেননা, পাপ সিন্ধুতে নিমজ্জিত মানবকূলকে উদ্ধার এবং অন্ধাকাচ্ছন্ন জগতকে আলোকিত করার লক্ষে বান্দার জন্য নেয়ামত ও রহমত স্বরূপ নূরী সত্ত¡ায় নূরময় রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ৫৭০ খ্রীঃ ১২ রবিউল আউয়াল রোজঃ সোমবার সুবহে সাদেকের সময় এই ধরাধামে আগমন করেন। মহান রাব্বুল আলামীন কালামে পাকে আরো এরশাদ করেন-
 
إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا
উচ্চারণঃ ইন্না আরছালনা-কা শা-হিদাওঁ ওয়া মুবাশশিরাওঁ ওয়া নাযীরা।
 
অর্থঃ নিশ্চয় আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি উপস্থিত প্রত্যক্ষকারী (হাজির-নাজির) করে এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী করে।’ (সূরা ফাতাহ্ আয়াত ৮)
 
আজ আমরা উম্মতে মোহাম্মদীগণ মহান রাব্বুল আলামীনের ভালাবাসা অর্জনের জন্য আমাদের পেয়ারা নবীকে অনুসরণ করে সেই রহমতের আনন্দ আত্মপ্রকাশ স্বরূপ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ও জশনে জুলুস পালন করি। এ প্রসঙ্গে কালামে পাকে বলা হয়েছে-
 
رٌ رَّحِیۡمٌ قُلۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تُحِبُّوۡنَ اللّٰہَ فَاتَّبِعُوۡنِیۡ یُحۡبِبۡکُمُ اللّٰہُ وَیَغۡفِرۡ لَکُمۡ ذُنُوۡبَکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ غَفُوۡ
উচ্চারণঃ কুল ইন কুনতুম তুহিববূনাল্লা-হা ফাত্তাবি’ঊনী ইউহব্বিকুমুল্লা-হু ওয়াইয়াগফির লাকুম যুনুবাকুম ওয়ালা-হু গাফুরূর রাহীম।
 
অর্থঃ (হে নবী) লোকদেরকে বলে দিন, তোমরা যদি আল্লাহর সাথে মহব্বত রাখো, তবে তোমরা আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ্পাক তোমাদেরকে ভালোবাসবেন।- সূরা আল্ ইমরান আয়াত নং ৩১
 
ইসলাম শান্তি ও মানবতার ধর্ম, কিন্তু বড় দুঃখের সাথে বলতে হয় আজ ডিজিটাল যুগেও ইসলামের মর্মবাণী উপলব্ধী না করে ষড়যন্ত্র কারিরা দলগতভাবে আমার রাসূলকে অবমাননা করতে এতটুকু ব্রæক্ষেপও করে না। মহান রাব্বুল আলামীন ইসলামের মাধ্যমে মানবতা ও শান্তির দ্বার উন্মোচন করেছেন। কিন্তু সেই ইসলামের মূল নবী (সাঃ) কে অপমান করে তাঁর প্রতি মহব্বত নষ্ট করার চক্রে এক বিশেষ গোষ্ঠি সর্বদা সক্রিয়।
ফ্রান্সের রাষ্টপতি ফেডেরিক ম্যাকরন দয়াল নবীজি (সাঃ) এর ব্যঙ্গচিত্র রাষ্টিয় ভাবে প্রদর্শন করে আমাদের নবীকে অপমানের যে ধৃষ্ঠতা দেখিয়েছেন তা রূখে দাড়ানো ও প্রতিবাদ করা প্রতিটি মুমিন-মুসলামানের ঈমানী দায়িত্য ও কর্তব্য। এজন্যই জাতীয় কবি যথার্থই বলেছেন,
 
”রাসূলের অপমানে যদি না কাঁদে তোর মন,
মুসলিম নয় মুনাফিক তুই, রাসূলের দুশমন।”
 
ইহা ছাড়াও আজ কাল রীতি মতো ধর্মীয় গোড়াপন্থী একদল জাহেল জনগোষ্ঠী, মৌলবাদ, জঙ্গীবাদ উগ্রবাদকে প্রতিষ্ঠা করে রাষ্টীয় ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্ঠির লক্ষে সর্বদা প্রচেষ্টায় রয়েছে। তাদের প্রতিটি কর্মকান্ড সাধারণ মুমিন-মুসলমানদের ঈমানকে কাক ও শকুনের মতো ভক্ষন করে নিচ্ছে। তাই আমাদের সকলকে আল্লাহর অনুগত্য করার লক্ষে সেই সকল নড়পশু থেকে সাবধান থেকে নিজেদের ঈমানকে হেফাজত করার জন্য রাসূলের অনুগত্য করতে হবে। তাই আল্লাহ এরশাদ করেন-
 
فِیۡظًامَنۡ تَوَلّٰی فَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ عَلَیۡہِمۡ حَمَنۡ یُّطِعِ الرَّسُوۡلَ فَقَدۡ اَطَاعَ اللّٰہَ ۚ وَ
উচ্চারণঃ মাইঁ ইউতি‘ইর রাছূলা ফাকাদ আতা‘আল্লা-হা ওয়ামান তাওয়াল্লা-ফামাআরছালনা-কা ‘আলাইহিম হাফীজা।
 
অর্থঃ যে রাসূলের অনুগত্য করলো সে তো আল্লাহরই অনুগত্য করলো।- সূরা আন নিসা আয়াত ৮০
 
বাংলাদেশ আশেকে রাসূল ও অলি-আল্লাহগণের দেশ। হযরত শাহ্ জালাল (রহঃ), হযরত খাজা শরফুদ্দিন চিশতী, হযরত খাঁনজাহান আলী, হযরত শাহ্ আলী বোগদাদী, হযরত আমানত শাহ্ গাজীয়ে বালাকোট সূফী নূর মোহাম্মদ নিজামপুরী, রাসূলেনোমা হযরত সূফী ফতেহ আলী ওয়াইসী (রহঃ), ৩৬০ আউলিয়া ও অসংখ্য অলি-আউলিয়াগণের পূণ্যভূমি। তাদেরই মধ্যে অন্যমত কুতুবুল এরশাদ, সুলতানুল মাওহেদিন ওয়াল কামেলিন, ফাখরুস শায়েখিন, সামসুল ওলামা, হিজরী চৌদ্দশতকের মোজাদ্দেদ, মোর্শেদে আলম আল্লামা হযরত সাইয়্যেদ শাহ্ সূফী আহম্মদ আলী ওরফে মাওলানা জানশরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (রহঃ)। যাদের কারনে আজ আমরা ইসলামের মর্মবাণী পেয়েছি, ইবাদত ও রাসূলের ভালোবাস শিখে প্রকৃত মুসলমান হতে পেরেছি।
 
বাংলাদেশ প্রতিষ্টার পরবর্তীতে হযরত জানশরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী ক্বিবলা কা’বা (রহঃ)-র অধঃস্তন ৪র্থ পুরুষ, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক’৯০ এর ঘৃণিত কালো দরগাহ্ আইনের তিব্র প্রতিবাদকারী এবং আন্দোলনের প্রাণ পুরুষ আলহাজ্জ হযরত শাহ্ সূফী সাইয়্যেদ বেলাল নূরী আল্ সুরেশ্বরী (মাঃ জিঃ আঃ) বাংলাদেশ আশিক্কীনে আউলিয়া পরিষদ এর প্রতিষ্টাতা সভাপতি এবং তৎকালিন একক সংগঠন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়া’ত বাংলাদেশের প্রাক্তন সভাপতি। তাঁহার নেতৃত্বেই তীব্র আন্দোলনের মুখে সরকার “দরগাহ্ আইন’৯০ বাতিল করতে বাধ্য হন। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সর্ব প্রথম ঈদে মিলাদুন্নবীকে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্টীয় ভাবে স্বকৃতি প্রধান করেন, কিন্তু তাঁহা পরবর্তিতে একটি কুচক্র মহলের মাধ্যমে সিরাতুন্নবীতে পরিণত হতে চলে ছিলো তখই তাঁহার (বাবা বেলাল নূরীর) একক নেতৃত্বে এই বাংলার সকল আশেকে রাসূল, তরিকতপন্থী এবং মুমিন মুসলমানগণের অক্লান্ত পরিশ্রমে বাংলাদেশ আশিক্কীনে আউলিয়া পরিষদ এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়া’ত বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ ফসল হিসেবে আমরা আজ রাষ্টীয় ভাবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উৎযাপন করতে সক্ষম হচ্ছি।
 
আমি আগত সকল সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে রাসূল (সাঃ) এর ভালোবাসার বাণী ও সুন্নাহকে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা গ্যাপন করছি, আপনাদেরকে আরো অহ্ববান জানাচ্ছি যে, আপনারা ইসলামের উগ্র ও জঙ্গীবাদকে রুখে দাড়িয়ে মানবতা চর্চার প্রচার ও প্রসার ঘটাবেন যাঁহা আল্লাহর অলিগণের খানকা ও দরবার শরীফ সমূহে শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে। আপনাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার মাধ্যমে মানবতা ও রাসূলের (সাঃ) প্রেম দ্বারা উচ্চ সিখরে পৌঁছাতে সহায়ক হবে।
 
পরিশেষে আমি বিশেষ করে বাংলাদেশ আশিক্কীনে আউলিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মুফতি মাসুম বিল্লাহ্ নাফেঈ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সামসুল হক্বসহ্ সকল সদস্যবৃন্দ ও আশেকে রাসূলগণের প্রতি ভালোবাসা ও সালাম জানিয়ে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি। -ধন্যবাদ
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুফতী মাসুম বিল্লাহ নাফিঈ তার বক্তব্যে বলেন, রাসূলে কারীম সাঃ এর মাধ্যমেই আল্লাহ তা’য়ালা ইসলামকে করেছে পরিপূর্ণ। বর্ণবাদ, বৈষম্য, শোষণ ও দাসত্ববাদের করেছেন কবর রচনা। মহানবী সাঃ আরবে বর্বরতার জাহিলিয়্যাতের মধ্যে সাম্য এবং সম্প্রীতি দিয়েই প্রতিষ্ঠিত করেছেন ইসলামের শান্তিময় শ্বাশত বিধান। তিনি বলেছেন স্রষ্টা এবং সৃষ্টির অধিকার ব্যক্তি পর্যায় থেকে রাষ্ট্রে পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করাই হচ্ছে ইসলামের মূল দাবী। নূর নবী সাঃ ই পৃথিবীতে সর্বপ্রথম রাষ্টের জন্য লিখিত সংবিধান প্রণোয়ন করেন। যা মদিনার সনদ বলে ইতিহাসের সোনালী বর্ণে খুদিত। এসবকিছু হয়েছে একমাত্র তিনি ধরাধামে মানুষরূপে শুভগামনের ফলে। আর এ আগমনের শুভ ক্ষণ ও দিন ঈমানদার মু’মিন মুসলিমের কাছে ঈদ-এ-মীলাদুন্নবী সাঃ হিসেবে অনুকূলনীয়। তাই আমর ঈমানের তাগিদে ১২ রবিউল আউয়াল ঈদ-এ -মীলাদুন্নবী পালন করে থাকি।
 
উক্ত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য পেশ করেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল হক নূরী সুরেশ্বরী, কৃষক লীগ নেতা খন্দকার ফরিদ উদ্দিন, সৈয়দ আলম, মো. আমিনুল হক চৌধুরী স্বপন, মো. আশরাফ আলী, মো. আজাদ, মো. বাচ্চু মীর, মো. মফিজ উদ্দিন, মো. আলমগীর হোসেন, আব্দুল কাদেরসহ্ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
পরিশেষে, দয়াল নবীর প্রতি দুরুদ ও সালাম ও সকলের মঙ্গল কামনায় মুনাজাত (দোয়া)-র মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুভ সমাপ্তি হয়।
যোগাযোগঃ প্রথান কার্যালয়, দরবারে সুলতানুল আউলিয়া সুরেশ্বর দ্বায়রা শরীফ, নড়িয়া শরীয়তপুর।
ফোনঃ অফিসিয়াল- ০১৬০১-৬০৬০৩৬।